আজ ৩রা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৬ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া জঙ্গি হামলায় আত্মোৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের চেকপোস্টে ২০১৬ সালের ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিনে জঙ্গি হামলায় আত্মোৎসর্গকারী বীর পুলিশ সদস্যদের স্মৃৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থল চরশোলাকিয়া সবুজবাগ মোড়ে নির্মিত অস্থায়ী বেদীতে বুধবার (৭ জুলাই) সকালে পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের নিয়ে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মোস্তাক সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সপুার (অপরাধ) নূরে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) অনির্বাণ চৌধুরী, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহীম হোসেন, কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. আবুবকর সিদ্দিক পিপিএম, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সফর আলী, পুলিশ পরিদর্শক জয়নাল আবেদীন প্রমুখসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আত্মোৎসর্গকারী বীর পুলিশ সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্য মোহাম্মদ আলী। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের জামাত ও জামাতের ইমাম মুফতি ফরিদ উদ্দিন মাসউদের ওপর হামলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জঙ্গিরা চাপাতি, বোমা এবং পিস্তল নিয়ে হামলা চালিয়েছিল। জঙ্গিরা চাপাতি দিয়ে পুলিশের দুই সদস্য আনসারুল হক ও জহিরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে অন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে গিয়ে তাদের প্রতিরোধ করলে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কুমিল্লার সন্তান জঙ্গি আবির রহমান (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এছাড়া নিজ বাসায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঝর্ণা রাণী ভৌমিক (৪০) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়। এ সময় আহত হন আরও ১২ পুলিশ সদস্য। বন্দুকযুদ্ধের একপর্যায়ে র্যাবের হাতে বুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় অপর জঙ্গি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট এলাকার শফিউল ইসলাম (২২) ধরা পড়ে। শফিউল পরবর্তী সময়ে এনকাউন্টারে মারা যায়।

কিশোরগঞ্জ শহরের পশ্চিম তারাপাশা এলাকার জাহিদুল হক তানিম (২৬) নামে এক যুবকও ঘটনাস্থল থেকে আটক হয়। পুলিশ ২০১৮ সালের ১২ সেপ্টেম্বর চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করে। অভিযোগপত্রে মোট ২৪ জন আসামির নামাল্লেখ করা হলেও ১৯ জন আসামি দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। ২০১৮ সালের ২৮ নভেম্বর পাঁচ আসামি জঙ্গি নেতা বড় মিজান, রাজিব গান্ধী, সোহেল মাহফুজ, আনোয়ার হোসেন ও স্থানীয় যুবক জাহিদুল হক তানিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এদিকে জঙ্গি হামলায় নিহত ঝরণা রানীর পরিবারের বিপর্যস্তভাব এখনও কাটেনি। ঝর্ণা রাণীর ছোট ছেলে শুভদেব এখনও মায়ের আদর স্নেহ খুঁজে ফেরে। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে এ হামলায় জড়িতদেরকে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্বজনেরা। কিশোরগঞ্জ জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট শাহ আজিজুল হক বলেন, করোনার কারণে মামলাটির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে এ মামলার আসামিদের মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করতে চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ