আজ ১লা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

কোরবানির হাট সংক্রমণের বাজার

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বড় পশুর হাট কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠ সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী ইচ্ছাগঞ্জ গরুর হাট। ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৬ জুলাই) জমজমাট গরুর হাট বসে সেখানে। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় ও সমাগমে স্বাস্থ্যবিধি ছিল উপেক্ষিত। গরুর হাটটিতে এদিন কয়েক হাজার গরুর আমদানি হয়। জেলা ও আশপাশ এলাকা থেকে খামার মালিক ও পালনকারিরা শত-শত গরু নিয়ে বাজারে এসে ভিড় করেন। কিন্তু বাজারে স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। এমনকি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের অধিকাংশের মুখে মাস্কও ছিল না। মাস্ক বহনকারী অধিকাংশেরই মাস্ক ছিল থুতনিতে। খুব অল্প সংখ্যক মানুষকে মাস্ক পরতে দেখা গেছে। এ অবস্থায় সচেতন অসংখ্য মানুষ হাটে ঢুকেননি। শুক্রবার (১৬ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় সরেজমিনে ইচ্ছাগঞ্জ গরুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে উপচে পড়া ভিড়। কয়েক হাজার গরু বিক্রি করতে ইচ্ছাগঞ্জ হাটে আনা হয়েছে। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে মূল বাজার বা হাটে প্রবেশ করা ছিল দুরূহ ব্যাপার। মূল হাটের চারদিকের সড়কের তিনদিকেই গড়ে দুই কিলোমিটার রাস্তায় গরু নিয়ে বিক্রেতারা বসে রয়েছেন। ফলে হাজারো গরু এবং ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে বাজার ও আশপাশ এলাকা। এমন ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি যেন উধাও হয়ে যায়। গরু পালনকারিরা জানান, এবার গরুর আমদানি বেশি, তাই দাম কিছুটা কম। তারপরও হাটে আসা গরুর যে দাম বিক্রেতারা দিতে চাচ্ছেন, তাতে তাদের লোকসান হবে না। সামান্য কিছু লাভ হবে। করিমগঞ্জের গাংগাইল থেকে দুইটি বড় আকারের গরু নিয়ে হাটে এসেছেন মনু মিয়া। তিনি জানান, তার এই দুইটি গরু সাড়ে সাত মাস আগে ১ লাখ ১২ হাজার টাকায় কিনে তিনি এতদিন লালন-পালন করেছেন। গরু দুইটি হাটে আসা ঢাকার পাইকাররা ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় কিনে নিয়েছেন। তিনি আরো জানান, প্রতিদিন দুইটি গরুর খাবার বাবদ গড়ে ৫৫০ টাকা খরচ হতো। গড় হিসেবে তার উল্লেখযোগ্য টাকা লাভ না হলেও লোকসান হবে না। সবচেয়ে বড় কথা তিনি ভেঙ্গে ভেঙ্গে খরচ করেছেন। কিন্তু এখন একসাথে টাকাটা পেয়েছেন। এতে তিনি অন্য বড় ধরণের কাজ করতে পারবেন। আবার বিক্রিত টাকা অন্যত্র বিনিযোগ করতেও পারবেন। মনু মিয়ার মতো অনেক পালনকারী একই ধরণের কথা বলেছেন। হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনেকজনের কাছে স্বাস্থ্যবিধি ও করোনা বিষয়ে জানতে চাইলে তারা হেসে নিরুত্তর থাকেন।

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ