আজ ১লা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৪ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ইসিকে শুধু কথা নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে

২৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়েছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের দুটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন পরিচালনা করবে এই কমিশন। নতুন কমিশন কেমন হলো, তাদের সামনে চ্যালেঞ্জ, করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রিয়াদুল করিম

বদিউল আলম মজুমদার

এবারই প্রথম একটি আইনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলো। নতুন কমিশন কেমন হলো?

বদিউল আলম মজুমদার: কমিশন কেমন হলো, তা বলা দুরূহ। কারণ, এই কমিশন গঠনের আগে আমরা দাবি করেছিলাম, অনুসন্ধান কমিটি যেন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তাদের সুপারিশ করে। অনুসন্ধান কমিটি যাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, তাঁদের অনেকেই এই দাবি করেছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইনের ৪ ধারাতে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতার নীতি অনুসরণ করে অনুসন্ধান কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। এ ধারায় আরও বলা আছে, সততা এবং সুনাম বিবেচনা করে তারা সুপারিশ করবে। কিন্তু সততা ও সুনামের কোনো মানদণ্ড নেই। এটার একমাত্র নির্ণায়ক হলো জনশ্রুতি, জনগণ কী মনে করে, সেটা জরুরি। জনগণকে আস্থায় নিয়ে কারা কার নাম প্রস্তাব করেছে, তা প্রকাশ করা হলে মানুষ মতামত দিতে পারত। স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হলে অতীতের নির্বাচন কমিশন নিয়ে যে রকম প্রশ্ন, আস্থাহীনতা ছিল, তা দূর হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হতো। এই যে কমিশন নিয়োগ পেল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অনেকগুলো রিপোর্ট বেরিয়েছে গণমাধ্যমে, ইসি গঠনের ক্ষেত্রে ছোট দলগুলো বড় সাফল্য দেখিয়েছে। যে কৌশল অবলম্বন করে ক্ষমতাসীন দল তাদের পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে ২০১৭ সালে নিয়োগ দিতে পেরেছে, এবারও অনেকটা তারই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে বলেই মনে হয়। একটি সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। যেটা দুর্ভাগ্যজনক। অনুসন্ধান কমিটি এই সন্দেহ দূর করতে ভূমিকা রাখতে পারত।

তার মানে যে আইন করা হলো, তাতে কোনো লাভ হলো না..

বদিউল আলম মজুমদার: রাষ্ট্রপতি আগে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ইসি নিয়োগ দিতেন, সেটারই মূলত একটি আইনি পোশাক পরানো হয়েছে। আইনের অনেকগুলো দুর্বলতা আছে। একটা হলো অনুসন্ধান কমিটির কাঠামো আগে প্রজ্ঞাপনে (২০১২ ও ২০১৭) যেমন ছিল, এবারও তা একই রাখা হয়েছে। যোগ্যতা-অযোগ্যতার মাপকাঠি একেবারে সাদামাটা। এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া দরকার ছিল—দলীয় সংশ্লেষ, দুর্নীতির কোনো বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ আছে কি না, তাঁদের আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রা সংগতিপূর্ণ কি না। প্রস্তাবিত নামগুলো প্রকাশের বিধান রাখা দরকার ছিল। নাম প্রস্তাবে অনুসন্ধান কমিটিকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে, এটা অপর্যাপ্ত। সত্যিকার অর্থে অনুসন্ধান কতটুকু হয়েছে, আমরা নিশ্চিত নই। নাম অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও বিবেচনাবোধ করা দরকার, এটা করা হয়েছে কি না, সন্দেহ আছে। এই আইন আগের পদ্ধতি কিংবা প্রক্রিয়ার কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি। অনুসন্ধান কমিটিতে অন্তত তিনটি দলের প্রতিনিধি থাকলে একটা গ্রহণযোগ্য নাম আসার সুযোগ থাকত।

  • নির্বাচনকালীন সরকার মানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা যদি নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তাহলে সবচেয়ে শক্তিশালী কমিশনও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবে না।
  • ইভিএম নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
  • নির্বাচনের সময় এমন একটা সরকার থাকতে হবে, যারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।
  • ইসি কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে, তার পথনকশা দরকার।

কারা কার নাম প্রস্তাব করেছে, সে তথ্য চেয়ে আপনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে চিঠি দিয়েছেন। সেটার সর্বশেষ কী অবস্থা?

বদিউল আলম মজুমদার: ১ মার্চ আমি একটা পত্র পেয়েছি মন্ত্রিপরিষদ থেকে। তথ্য সরবরাহে অপারগতা জানিয়েছে। তারা বলেছে, আইন অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব অনুসন্ধান কমিটির সদস্য নন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুসন্ধান কমিটির কার্য সম্পাদনে শুধু সাচিবিক সহায়তা দিয়েছে। কাজেই এ বিষয়ে তথ্য সরবরাহ করার এখতিয়ার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেই। আমরা মনে করি, এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এটা নিয়ে আপিল করব।

সিইসি প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা জরুরি। কিন্তু তিনি মুরব্বির ভূমিকা নিতে পারবেন না। ইসি একা সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে পারে না। তাঁর এই বক্তব্য কীভাবে দেখেন?

বদিউল আলম মজুমদার: আমি এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। শুধু সিইসি নন, অনেকেই এটা বলে আসছেন, যাঁরা সত্যিকার অর্থে
গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, নির্বাচন কমিশন গঠন একটা ধাপ। পরবর্তী
ধাপে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে ধাপটা সঠিক হতে হবে।

নির্বাচনকালীন সরকারকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকার মানে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তারা যদি নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তাহলে সবচেয়ে শক্তিশালী কমিশনও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবে না।

২০১৮ সালে কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম। যেমন গায়েবি মামলা, প্রতিপক্ষকে মাঠে থাকতে না দেওয়া ও নির্বাচনের আগে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছে। রাতে ভোটের অভিযোগও উঠেছে। অনেক প্রার্থীকে এলাকায় যেতে দেওয়া হয়নি। ইসি যদি কঠোর ব্যবস্থা নিত, তাহলে এগুলো বন্ধ করতে পারত। এরপরও যদি বেসামাল পর্যায়ে যেত, ইসি নির্বাচন স্থগিত করতে পারত। ইসি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, তাদের দায়িত্ব হলো সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করা। ইসি হয়তো সব সময় সঠিক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারবে না, কিন্তু খারাপ নির্বাচন প্রতিহত করতে পারে। নির্বাচনের সময় এমন একটা সরকার থাকতে হবে, যারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে। এ জন্য রাজনৈতিক সমঝোতা দরকার। এটা সঠিক।

বর্তমান যে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, তাতে সমঝোতার সম্ভাবনা কতটুকু, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিএনপি বলেছে, এই কমিশন নিয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই। এখন কমিশনের সামনে চ্যালেঞ্জ কী?

বদিউল আলম মজুমদার: কমিশনের চ্যালেঞ্জ হলো ইসির প্রতি মানুষের আস্থার সংকট। তাদের কার্যক্রমের মাধ্যমে আস্থার সংকট দূর করতে হবে। বিভিন্ন নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে আসেনি। কারণ, অনেকের ধারণা হয়েছে, আমি গেলেও ভোট দিতে পারব না। আবার ভোট দিলেও ভোটটা সঠিকভাবে গণনা হবে কি না, সন্দেহ আছে। নতুন কমিশন আসলে একটা সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায়, এটা তাদের কার্যক্রমে প্রমাণ করতে হবে।

আপনারা বলে আসছেন, গত দুটি কমিশন নির্বাচনী ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। এই ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নতুন কমিশন কী করতে পারে?

বদিউল আলম মজুমদার: তারা কীভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে, তার পথনকশা (রোডম্যাপ) দরকার। ইসি অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিতে পারে। তারা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে, এটা মুখে বললে হবে না। এটা মানুষের কাছে প্রতীয়মান হতে হবে। কতগুলো বিষয়ে তাদের নজর দেওয়া দরকার, যেমন ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন)। এটা একটা ভয়ানক যন্ত্র। এখন সারা পৃথিবী ভোটে প্রযুক্তি থেকে বেরিয়ে আসছে। কারণ, নির্বাচন নিয়ে এমনিতেই অনেক প্রশ্ন আছে। সেখানে এই যন্ত্র আরও প্রশ্ন সৃষ্টি করে। প্রযুক্তি থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই ইভিএম নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ভোটার তালিকায় একটা অসংগতি আছে, জেন্ডার গ্যাপ (নারী-পুরুষ ভোটারের ফারাক) বাড়ছে। এর কারণ, গত কমিশনের অপারগতা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে নিবন্ধন করার কাজটি তারা সঠিকভাবে করেনি। কোনো কোনো জেলায় জেন্ডার গ্যাপ ভয়ানক। এটা দূর করা দরকার। গত কমিশন ও কমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আমরা দেখতে চাই, বর্তমান কমিশন তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়।

নির্বাচনের সময় ইসির করণীয় কী?

বদিউল আলম মজুমদার: রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড যেন সব পক্ষ সুষ্ঠুভাবে পালন করতে পারে, এ বিষয়ে ইসির সুস্পষ্ট অবস্থান দরকার। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড (সবার জন্য সমান সুযোগ) করতে এটা জরুরি। এ জন্য দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে আস্থার সংকট ক্রমান্বয়ে দূর হবে। মানুষ ভোট দিতে আগ্রহী হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনেক জায়গায় প্রার্থী হতে দেওয়া হয়নি। ইসি কিছুই করেনি। এগুলো নিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। তাহলে আস্থার সংকট কাটবে। মানুষ ভোট দিতে আসবে। মানুষের মধ্যে এই বিশ্বাস জন্মাতে হবে যে আমি আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারব। আমি ভোট দিলে সেটা সঠিকভাবে গণনা হবে। সবচেয়ে জরুরি হলো আইন ও বিধিবিধানের কঠোর প্রয়োগ। আইন পর্যালোচনা করে নতুন কমিশন আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব করতে পারে। ইভিএম কেনা নিয়ে অভিযোগ আছে, নতুন কমিশন বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে পারে। শোনা যায়, ইসিতে দলবাজির সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। হলফনামা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুগোপযোগী করা এবং হলফনামার যে তথ্য প্রার্থীরা দেন, তা যাচাই করার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। এগুলোর মাধ্যমে বোঝা যাবে কমিশন এসব ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারবে কি না। আস্থার সংকট দূর করতে হলে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং মানুষের কাছে প্রতীয়মান হতে হবে যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ইভিএম নিয়ে সন্দেহের জায়গাটা কোথায়?

বদিউল আলম মজুমদার: ইভিএম প্রোগ্রাম করা। যদি প্রোগ্রাম করে আপনি ঠিক করতে পারেন, নৌকা ও ধানের শীষের জন্য নির্ধারিত বোতাম চাপলে ভোট যাবে, তাহলে আপনি অন্যভাবেও প্রোগ্রাম করতে পারেন। ইভিএমে ওয়ান টাইম প্রোগ্রামেবল চিপ এবং পেপার ট্রেইল লাগবে। ইভিএম সবার উপস্থিতি পরীক্ষা করে সিল করে রাখতে হবে। এগুলো শামসুল হুদা কমিশন করতে চেয়েছিল। কিন্তু এগুলোর দিকে নজর দেওয়া হয়নি। অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ছিলেন নির্বাচন কমিশনের কারিগরি পরামর্শক কমিটির প্রধান। তিনি পেপার ট্রেইলের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করেছিলেন। সেটা রাখা হয়নি।

ইসি তো বরাবরই বলে থাকে তারা কোনো অভিযোগ পায় না। এ বিষয়ে কী বলবেন?

বদিউল আলম মজুমদার: ইসির এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত। কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেটা দেখা তাদেরই দায়িত্ব।

নতুন কমিশনের কাছে প্রত্যাশা কী?

বদিউল আলম মজুমদার: রাষ্ট্রপতির জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অতীতে যে দুটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে, তারা আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং আমাদের ভোটাধিকার হরণ করেছে। তাদের অপকর্মের ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও নির্বাচন কমিশনের ওপর জনগণের ব্যাপক আস্থাহীনতা সৃষ্টি হয়েছে। নতুন আইনের অধীনে আবারও সেই পুরোনো কৌশল অবলম্বন করে আমাদের নতুন নির্বাচন কমিশন গঠিত হলো। গঠন প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও প্রশ্নবিদ্ধতার কারণে নতুন কমিশনের ক্ষেত্রেও বিরাজমান আস্থার সংকট রয়েই গেল। আশা করি নতুন কমিশন তাদের সততা, স্বচ্ছতা, সাহসিকতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে এ আশঙ্কা দূর করতে সক্ষম হবে। এখন নতুন নির্বাচন কমিশনের কাজ ও আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকারের সহায়তা লাগবে, আদালতেরও সহায়তা লাগবে। নেতৃত্ব দিতে হবে কমিশনকে। দৃশ্যমান সততা, স্বচ্ছতা, দৃঢ়তা, সাহসিকতা এগুলো দেখাতে হবে, নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে হবে। শুধু কথা বললে হবে না, কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে তারা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চায়।

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ