আজ ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ভয়াবহ শব্দ দূষণ: কিশোরগঞ্জে ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলারে তীব্র যানজটে অতিষ্ঠ শহরবাসী

প্রতিদিন সংবাদ ডেস্ক: নিষিধ থ্রি হুইলার আর অটো রিকশার জটে নাকাল কিশোরগঞ্জ পৌরবাসী। ট্রাফিক নিয়ম না মেনে যত্রতত্র স্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী উঠানামা আর হর্নের দৌরাত্ম্য এ শহরের মানুষদের নিত্যদিনের সঙ্গী। ১০.৩৭ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পৌর এলাকায় ৬ শতাধিক থ্রি হুইলার চলাচলে পৌর কতৃপক্ষের অনুমতি থাকলেও চলাচল করছে সাড়ে পাঁচ হাজারেরও বেশি। সংকট নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য হলো ‘চেষ্টা করা হচ্ছে’। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের বেশির ভাগ সড়কই সরু। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ থাকে পার্কিং আর দোকানীদের দখলে।

ফলে শহরের হাতে গোনা কয়েকটি সড়ক ছাড়া ফুটপাত দিয়ে হাঁটার জো নেই। আর গলি দিয়ে হাটতে গেলে প্রায় সময় এসব অটো রিকশা গায়ের উপরে উঠে যায়। পৌর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য মতে, কিশোরগঞ্জ শহরে বসবাস করেন প্রায় আড়াই লাখ মানুষ। সে হিসেবে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ২৪ হাজার ১০৮ জন। গতকাল সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সদর হাসপাতাল, জজকোর্ট এলাকা, কালিবাড়ি মোড়, পুরান থানা, তেরপট্টি মোড়, বড়বাজার এলাকায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট করে যানজটে আটকা পড়ে রয়েছেন যাত্রীরা। অথচ হেঁটে যাওয়ার পথ ৫ থেকে ৭ মিনিটের। ট্রাফিক সূত্র মতে, শহরের দশটা পয়েন্টে বাইশজন ট্রাফিকসহ মোট বায়ান্নজন ট্রাফিক নিয়ে নিয়মিত ডিউটি করেন। অথচ যানজট নিরসনে এদের ভুমিকায় তুচ্ছ। ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আব্দুল হামিদ জানান, ৬০০ জায়গায় ৬ হাজার পরিবহন চলাচল করলে স্বাভাবিক ভাবেই যানজট সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে বড় ধরনের ট্রাক বা কোন গাড়ি ঢুকলে পুরো শহর জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। এর বাইরে গ্রাম থেকে আসা থ্রি-হুইলার আর অটো রিকশার কারণে মূলত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে মানবিক বিবেচনা করে কিছু বলা যায় না। তবে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। জেলার ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ সভাপতি ফিরোজ উদ্দিন ভুইঁয়া বলেন, যানজট অসহনীয় প্রর্যায়ে চলে গেছে। রাস্তা ছোট এর মধ্যে আবার অবৈধ্য ফুটপাত। হেঁটে চলার মত শহর তৈরির জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। যা পৌরমেয়র কতৃপক্ষের জন্য জরুরি। জনসচেতনতামূলক সভা সমাবেশ করেও যানজট শিথিল করা যায়। সংগঠনের পক্ষে আমরাও জনসচেতনতামূলক প্রচারণা করে যাচ্ছি। পৌর মেয়র মাহমুদ পারভেজ বলেন, যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিআরটিএ এবং পৌরসভার প্রতিনিধিসহ আমাদের সকলের সমন্বয়ে জরুরি। আমার পক্ষে একা সম্ভব নয়। প্যানেল মেয়র আবদুল গনি মিয়া জানান, রাস্তার দুপাশে অবৈধ পার্কিং এবং ভ্যানে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয় করার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।

আমরা মেয়র মহোদয়কে নিয়ে ফুটপাতসহ যানজট নিরসনে কাজ করছি। উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে কিশোরগঞ্জ শহরে ইজিবাইক নামানো হয়। গত সাড়ে ছয় বছরে ইজিবাইকের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে। বিগত দিনে সিদ্ধান্ত হয়, শহরে ছয়শত ইজিবাইক চলাচল করবে। সেই লক্ষ্যে পৌর কর্তৃপক্ষ ছয়শত ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছে। বাকি প্রায় পাছঁ হাজার ইজিবাইক মিশুক শহর থেকে সরাতে পারেনি পৌর কর্তৃপক্ষ।

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ