আজ ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নয় মাস পর আমির হোসেন হত্যা রহস্য উদঘাটন, আদালতে ঘাতকের স্বীকারোক্তি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে হত্যাকাণ্ডের নয় মাস পর আমির হোসেন (৫৫) হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই। এ ঘটনায় জড়িত শফিক (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়েছে।
বুধবার (২০ জুলাই) কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর দত্ত ১৬৪ ধারায় শফিকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। স্বীকারোক্তিতে সে জানিয়েছে, চুরি করা গরুর টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি চক্রের সদস্য শফিক ও নিজাম উদ্দিনসহ অন্যরা মিলে চক্রেরই অপর সদস্য আমির হোসেনকে হত্যা করে।
নিহত আমির হোসেন নরসিংদী জেলার বেলাব উপজেলার ছলমা গ্রামের মৃত আয়েছ আলীর ছেলে।
অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া শফিক কুলিয়ারচর উপজেলার আলীনগর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে।
পিবিআই কিশোরগঞ্জ জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত বছরের ১২ অক্টোবর সকালে কুলিয়ারচর উপজেলার দক্ষিণ সালুয়া গ্রামের একটি কলাবাগান থেকে আমির হোসেনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. কাঞ্চন বেগম বাদী হয়ে ওইদিনই কুলিয়ারচর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে গত ১০ ফেব্রুয়ারি পিবিআই গ্রহণ করে এবং এসআই মো. সুমন মিয়াকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে মঙ্গলবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় কুলিয়ারচরের আলীনগর গ্রামে অভিযান করে পিবিআই সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে শফিককে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করায় বুধবার (২০ জুলাই) তাকে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের জন্য আদালতে পাঠানো হলে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
তদন্তে উদঘাটিত তথ্যে জানা যায়, ভিকটিম আমির হোসেন, আসামি শফিক, নিজাম উদ্দিনসহ অপরাপর আসামিরা কুলিয়ারচর ও নরসিংদীর বেলাব এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি চক্রের সদস্য। তাদের নামে কুলিয়ারচর, বেলাব সহ অন্যান্য থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ভিকটিম আমির হোসেন সহ ৪/৫ জন মিলে বিভিন্ন এলাকা হতে প্রায় সময় গরু চুরি করে গ্রেপ্তাারকৃত আসামি শফিক এর বাড়ীতে নিয়ে রাখে। শফিক চুরি করা গরু নিজ বাড়ীতে রেখে বিক্রয় করে সকলকে টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে দিতো।

ঘটনার দিন ভিকটিমসহ অন্যরা একটি গরু চুরি করে শফিক এর বাড়ীতে নিয়ে যায়। চোরাইকৃত গরুটি অনুমান দাম ধরে শফিকের নিকট বিক্রয় করে এই টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে ভিকটিম আমির হোসেন, নিজাম উদ্দিন, শফিকসহ অন্যদের মধ্যে কথা কাটাকাটির ঘটনা ঘটে।
এক পর্যায়ে ভিকটিম আমির হোসেন কে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে কুলিয়ারচর উপজেলার দক্ষিণ সালুয়া গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের কলা বাগানে ফেলে রেখে যার যার মত চলে যায়।
তদন্তে উদঘাটিত এ খুনের ঘটনার সাথে জড়িত অপর একজন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ