আজ ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

ইটনায় ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন,ভাঙ্গন কবলে ফসলি জমি

ফারুকুজ্জামান কিশোরগঞ্জ: কিশোরগঞ্জের ইটনায় সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের শিমলা গ্রামের পাশের ছিনাই নদীতে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলনের এই মহোৎসব চললেও প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। এ পরিস্থিতিতে নদী সংলগ্ন এলাকার বাড়িঘর এবং আবাদী জমি হুমকির মুখে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম আমিন, রায়টুটী গ্রামের মো. হলুদ মিয়া এবং শিমলা গ্রামের বদরুল মিয়াসহ কয়েকজন মিলে ড্রেজার ভাড়ায় এনে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজটি করছে। মাঝে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কিশোর কুমার দাস অভিযান চালিয়ে ড্রেজারের ব্যাটারি জব্দ করে নিয়ে যান। এরপর কিছুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও গত ২০/২৫ ধরে আবারো বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালুখেকো চক্রটি আইনের কোন তোয়াক্কা না করে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে পার্শ্ববর্তী শিমলা ও শান্তিপুর গ্রাম। এ পরিস্থিতিতে গত ৯ই আগস্ট ৫০ জন এলাকাবাসীর স্বাক্ষরসহ শিমলা গ্রামের মো. মানিক মিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। ফলে দিনে-দুপুরে সেখানে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ছিনাই নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নদীর দুই পাড়ে ফসলি জমির ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে সকল ফসলি জমি অতি তাড়াতাড়ি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
অভিযোগকারী মো. মানিক মিয়া বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ করা দূরে থাক, আমরা সাধারণ কৃষকেরা বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানালে বালু উত্তোলনকারীরা আমাদের মারতে আসে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছি না। ফলে আমাদের জমির ক্ষতি হলেও চেয়ে চেয়ে শুধু এ ক্ষতি দেখে যেতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে দুইদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। গতকালও (মঙ্গলবার) মোবাইল কোর্ট করা হয়েছে, ড্রেজার ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এদিকে নিয়মিতভাবে বালু উত্তোলনের অংশ হিসেবে বুধবার দুপুরেও ছিনাই নদী থেকে বালু উত্তোলন করার ব্যাপারে ইউএনও’র দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইউএনও রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, আজকে নতুন করে নামছে হয়তো।

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ