আজ ১৪ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ, ২৭শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

পুলিশে চাকরির কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক মামুন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের ইটনায় পুলিশের চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (৫৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও ইটনা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকালে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া প্রতারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মৃত জনাব আলীর ছেলে।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়, প্রতারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে পুলিশের চাকরি দেওয়ার কথা বলে মো. কাউসার মিয়া নামে এক অনার্স পড়ুয়া শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী মো. কাউসার মিয়া ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের মো. আব্দুল কাদির এর ছেলে।

প্রতারিত হওয়া শিক্ষার্থী মো. কাউসার মিয়া ইটনা থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করলে এটি বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) মামলা (নং-০৯, তারিখ- ২৫/০১/২০২৪ খ্রি., ধারা- ৪২০/৪০৬/৫০৬ পেনাল কোড) হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

এর পরপরই অভিযুক্ত মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তারের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও ইটনা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালায়। যৌথ এ অভিযানে বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ এলাকা হতে সে গ্রেপ্তার হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রতারিত শিক্ষার্থী মো. কাউসার মিয়ার প্রতিবেশী প্রতারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।

পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে গত বছরের ১৫ জানুয়ারি কাউসার মিয়াকে সাড়ে চার লাখ টাকার বিনিময়ে পুলিশের চাকুরি পাইয়ে দেয়ার গ্যারাণ্টি দেয় মো. আব্দুল্লাহ্ আল মামুন।

মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের কথায় বিশ্বাস করে কাউসার তার পরিবারের লোকজনকে রাজি করিয়ে জমি বন্ধক, গরু বিক্রি ও ঋণ করে ১ম ধাপে গত বছরের ২৫ জানুয়ারি আড়াই লাখ টাকা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়িতে গিয়ে কয়েকজনের উপস্থিতিতে তার নিকট হস্তান্তর করে।

পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে আরো দুই লাখ টাকা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দেয় কাউসার।

পরবর্তীতে যথানিয়মে চাকরির পরীক্ষার পর চাকরি না হওয়ায় কাউসার তার টাকা ফেরত চাইলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ২/৩ দিনের মধ্যে টাকা ফেরতের আশ্বাস দেয়।

এরপর মো. কাউসার  একাধিকবার যোগাযোগ করে টাকা ফেরত পেতে ব্যর্থ হয়। কিছুদিন পর এলাকার স্থানীয় শালিসের মাধ্যমে ১৫ দিনের মধ্যে টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও মামুন টাকা ফেরত দেয়নি।

গত ১৫ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে কাউসার প্রতারক মামুনের বাড়িতে গিয়ে টাকা ফেরত চাওয়ায় আব্দুল্লাহ আল মামুন টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে ও ভবিষ্যতে টাকা চাইলে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়ার প্রকাশ্য হুমকি দেয়।

কাউসার প্রতিবাদ করায় মামুন তাকে মারতে উদ্যত হয়। এসময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে গিয়ে কাউসারকে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

পরবর্তীতে মো. কাউসার মিয়া ইটনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এ প্রেক্ষিতে থানায় মামলা রুজু করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) প্রতারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তারের সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইটনা থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান তার কাছ থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা উদ্ধারের পর জব্দ করেন।

Comments are closed.

     এই ক্যাটাগরিতে আরো সংবাদ