
চার বছর ধরে প্রতি রমজানে সেবামূলক কাজটি করছেন তিনি।
সেটা হলো রোজাদারদের কাছে দশ টাকা লিটারে দুধ বিক্রি। ক্রেতার চাহিদার কথা চিন্তা করে এবার উদ্যোগটা তিনি বড় করেছেন।
গত বছর দুই টন পরিমাণ দুধ বিক্রি করলেও এ রমজানে ২৫০ লিটার দুধ বেশি বিক্রি করবেন। সে অনুযায়ী রোজার প্রথম দিন থেকে প্রতিদিন ৭৫ জনের কাছে এক লিটার করে দুধ বিক্রি শুরু করেছেন তিনি।
নতুন খবর হলো এই স্বল্পমূল্যে রোজাদারদের পাতে দুধ তুলে দেয়ায় করিমগঞ্জের মো: এরশাদ উদ্দিন ও তার খামার জেসি এগ্রো ফার্ম সরকারের কাছ থেকে পাচ্ছে ‘বেস্ট প্রাকটিস সম্মাননা’।
আগামীকাল শুক্রবার বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবসে এরশাদ উদ্দিনকে এ সম্মাননা দেয়া হবে।
বিষয়টি জানিয়ে তাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়াধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একটি চিঠি দিয়েছে।
গত বুধবার রাতে তিনি এ চিঠি হাতে পান।
চিঠিতে জানানো হয় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুক্রবার (১৫ মার্চ) বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস ২০২৪ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাকে ও তার প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেয়া হবে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে তার হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান জানান, বেশ কয়েকটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমে এরশাদ উদ্দিনের ১০ টাকা লিটারে দুধ বিক্রির সংবাদটি প্রচার হওয়ায় এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিতে পড়েছে।
তাঁর নির্দেশেই মূলত এরশাদ উদ্দিনকে ‘বেস্ট প্রাকটিস সম্মাননা’ দেয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১৩ মার্চ) এরশাদ উদ্দিনের জেসি এগ্রো ফার্মের দশ টাকা লিটারের দুধ বিক্রি নিয়ে ‘রমজানে দুধের লিটার ১০ টাকা’ শিরোনামে ছবিসহ একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এর আগে অনেক অনলাইনে এই সংবাদ প্রচার হয়। সংবাদটি সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
মো: এরশাদ উদ্দিন বাংলাদেশ মিলস্কেল রি-প্রসেস অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও জেসি অ্যাগ্রো ফার্মের চেয়ারম্যান।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামে তার বাড়ি। গত চার-পাঁচ বছরে নিজ এলাকায় এগ্রো ফার্মটি গড়ে তোলেন তিনি। ফার্মটিতে কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বর্তমানে পাঁচ শতাধিক গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। একইসাথে উন্নতজাতের ২৫টি গাভিও পালন করা হচ্ছে। গাভিগুলো প্রতিদিন ৭৫ লিটার দুধ দিচ্ছে। এই দুধ-ই ১০ টাকা লিটারে রমজান মাসজুড়ে রোজাদারদের জন্য বিক্রি করছেন তিনি।
বিভিন্ন সামাজিক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত এই উদ্যোক্তা। তিনি আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক উপকমিটির সদস্য।
তার প্রতিষ্ঠিত এরশাদ উদ্দিন মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে করিমগঞ্জসহ আশপাশের এলাকার মানুষকে নিয়মিত আর্থিক অনুদান ও সহযোগিতা করে থাকেন। তা ছাড়া শিক্ষা প্রসারে এলাকায় নিজের খরচে একটি কলেজ ও স্কুল করেছেন। ঈদ ও পূজার সময়ও প্রতিবছর লোকজনকে বড় ধরনের আর্থিক অনুদান ও কাপড়চোপড় দিয়ে থাকেন এরশাদ উদ্দিন।