
আমিনুল হক সাদী: কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আয়োজনে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও করণীয় শীর্ষক অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সম্মেলন কক্ষ, উপজেলা পরিষদ, কিশোরগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জ আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেবুন নাহার শাম্মী, উপপরিচালক (উপসচিব), স্থানীয় সরকার শাখা, কিশোরগঞ্জ। এতে প্রধান অথিতি ছিলেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজিয়া খান। সভাপতি উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানান এবং এজলাসের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সভায় জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকালে বলেন, গ্রাম আদালত প্রকল্প ৩য় পর্যায় চলমান, আমরা এ বিষয়ে অবগত। আগামীতে কিভাবে সফলতা আসবে এবং কোন জায়গাগুলোতে ঘাটতি রয়েছে সেই জয়িগাগুলোতে আমাদেরকে কাজ করতে হবে। আমরা সভার মাধ্যমে সবাই একত্র হই এবং জানতে পারি আমাদের কাজগুলো যেভাবে করার কথা ছিল সেভাবে হচ্ছে না। গ্রাম আদালতে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষমতা রয়েছে। আমাদের কে আইন ও বিধি মেনে কাজ করতে হবে। আইনের ব্যত্তয় ঘটানো যাবেনা। আমরা যদি তৃণমূল পর্যায়ে ছোট মামলাগুলো নিষ্পত্তি করতে পারি তাহলে জেলা আদালতে এসে সাধারন জনগনকে হয়রানী হতে হবেনা, সম্পর্ক নষ্ট হবেনা। জেলা পর্যায়ে আদালতগুলো নানা ধরনের জটিলতা থাকে, সব সময় বিচারকদেরকে পাওয়া যায় না। আমরা যারা গ্রাম আদালত পরিচালনায় কাজ করছি আমাদের কে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আইনের সেবা থেকে যেন সাধারন জনগন বঞ্চিত না হয়। আমাদের অনেক ইউপিতে নতুন ভবন নাই, জ্ঞানের ও প্রশিক্ষনের ঘাটতি রয়েছে সেটা সমৃদ্ধ করতে হবে।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্প, ইপসা, কিশোরগঞ্জ জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার হাফিজা আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলায় বিগত আট মাসের কার্যক্রমের অগ্রগতি এবং গ্রাম আদালতে মামলার অগ্রগতি মার্চ ২০২৫ থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত উপজেলা ভিত্তিক স্টেটাস সম্পর্কে এবং পিছিয়ে পড়া ইউনিয়ন পরিষদ সমূহের প্রতি ইউনিয়নে প্রতি মাসে মামলার গড় প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে তুলে ধরেন। উক্ত সময়ের মধ্যে জেলায় মোট মামলা দায়ের হয় ১২৯৭ টি এবং জেলার সমাধানকৃত মামলার সংখ্যা ১০৭১। মোট ক্ষতিপুরণ আদায় হয় ২, ৬৫,৫২,২০০ টাকা।
গ্রাম আদালত পরিচালনার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ভিডিও প্রদর্শনীর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে তুলে ধরা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার, ভূমি, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা। বক্তব্যে তিনি বলেন- অনেক সমস্যা নিয়ে সাধারন জনগন আমাদের কাছে আসেন। সাধারন জনগন চায়না ঝামেলায় জড়াতে তারা ঘরোয়া ভাবে সমস্যা সমাধান করতে চায়। আমরা যদি সঠিক দায়িত্ব পালন করি তাহলে সাধারন জনগন হয়রানী মুক্ত ভাবে সেবা পাবে।সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো কামরুল হাসান মারুফ । তিনি বলেন- বিচার করার ক্ষমতা সকলের থাকে না। বিচার করেন সৃষ্টিকর্তা। ইউপি চেয়ারম্যানদেকে সেই বিচারিক সেবা প্রদানের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাদের সঠিক দায়িত্ব পালনের মাধমে জনগন সেবা পেলে তাদের কে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে আসতে হবেনা। আপনাদের কাছে আবেদন করে, এজন্য আপনাদের দায় এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই। মামলা পরিচালনার নথি হালনাগাদ ও সংরক্ষন করতে হবে। গ্রাম আদালত সক্রিয় হলে ৬০-৭০% মামলা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। জেলা আদালতে আসলে হয়রানি হতে হয়, টাকা নষ্ট এবং দীর্ঘ সময় অতিবাতি হয় আর সম্পর্ক নষ্ট হয়।
সমাপনি বক্তব্যে সভাপতি বলেন- ইউপি চেয়ারম্যানগণ দিনে ৮/১০ টি মামলা নিষ্পত্তি করেন কিন্তু আমরা তা নথিভূক্ত করছি না। সঠিক ভাবে সংরক্ষন করলে মামলা অগ্রগতি আরো বাড়তো। হিসাব সহকারীকে অন্য কাজে সংযুক্ত করে রাখায় তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। নথি না থাকলে সেটার আপডেট বলা যায়না। আবারও মামলা করতে আসে। এজলাসে বসে বিচারকার্য পরিচালনা করতে হবে। আমাদের প্রচষ্টা ও প্রতিযোগিতা থাকতে হবে। আমরা এক অন্যের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সমস্যা সমাধানের পথ বের করতে পারি। আগামী মাস থেকে অগ্রগতি না বৃদ্ধি পেলে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার শাখা, কিশোরগঞ্জ এর প্রশাসনিক ও উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ, সাধারন সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রেস ক্লাব এবং বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীগণ।
Show quoted text