পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি : "নিরাপদ সড়ক চাই"—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং সড়কে নিরাপদ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কুরআন খতম ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে পাকুন্দিয়া উপজেলার বিন্নাটি-টোক মহাসড়কের পাকুন্দিয়া বাইপাস মোড়ে (মৌসুমি সিনেমা হলের উত্তর পাশে) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), পাকুন্দিয়া উপজেলা শাখা এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, গত দুই বছরে বিন্নাটি-টোক মহাসড়কে একাধিক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং চালক ও পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।
দোয়া মাহফিলে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, উলামায়ে কেরাম, মাদরাসার শিক্ষার্থী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মোনাজাতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং দেশের সকল সড়কে নিরাপদ পরিবেশ প্রতিষ্ঠার জন্য মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জিএম শফিউল আলম আরজু, ভয়েস অব পাকুন্দিয়ার অ্যাডমিন ও দোয়া মাহফিলের আহ্বায়ক প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম, তারাকান্দী জামিয়া হুসাইনিয়া আছআদুল উলুম কওমী ইউনিভার্সিটির মুহতামিম জাহাঙ্গীর হুসাইনী, পাকুন্দিয়া মডেল মসজিদের সম্মানিত খতিব মাওলানা সোলাইমান, অনার্স অ্যান্ড মাস্টার্স ছাত্র কল্যাণ সংগঠনের উপদেষ্টা প্রভাষক আতাউর রহমান সোহাগ, আলোকিত পাকুন্দিয়ার অ্যাডমিন শাহীন আলম জয় এবং মুফতি রাকিব বিন শওকত।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী জিএম শফিউল আলম আরজু বলেন, “বিন্নাটি-টোক মহাসড়কটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়ার পর এ সড়কে যানবাহনের গতি বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই দ্রুত সড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো (ব্ল্যাক স্পট) চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড, গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নিয়মিত তদারকি এবং অন্যান্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই। সচেতনতা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), পাকুন্দিয়া আন্দোলনের সদস্য প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনা কোনো ভাগ্যের বিষয় নয়; অধিকাংশ দুর্ঘটনাই অসচেতনতা, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে ঘটে। তাই সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে যানবাহন চালানোর আহ্বান জানাই। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে প্রশাসন, চালক, পথচারী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগই পারে দুর্ঘটনা কমিয়ে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা করতে।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হাসানুল কবীর, মাওলানা আবু সাঈম, শেখ আব্দুল কাদির রিজন, কবি গোলাপ আমিন, ভয়েস অব পাকুন্দিয়ার মডারেটর হাফেজ মাওলানা রাকিবুল হাসান, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, হাফেজ ইব্রাহিম, অনার্স অ্যান্ড মাস্টার্স ছাত্র কল্যাণ সংগঠনের সভাপতি সারোয়ার জাহান ইমন, আব্দুল্লাহ আল মামুন সাগর, তারিফুজ্জামান তানিম, মাহবুবুর রহমান, মাহমুদুল হাসান উজ্জ্বল, আলোকিত পাকুন্দিয়ার মুকছুদ হাসান হৃদয়, শাহরিয়ার আকরাম অমি, আব্দুল্লাহ আল সানী, কামরুল ইসলাম, মো. অপু, মারুফুজ্জামানসহ স্থানীয় উলামায়ে কেরাম, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দোয়া মাহফিল শেষে আয়োজকরা চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, অতিরিক্ত গতি পরিহার করা এবং নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, জনসচেতনতাই সড়ক দুর্ঘটনা কমানোর অন্যতম কার্যকর উপায়।