নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন: পাকুন্দিয়ায় জনসচেতনতা ও সড়ক নিরাপত্তার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ : সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষ আহত হচ্ছেন। এর অন্যতম কারণ বেপরোয়া গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত গতি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং সড়ক আইন না মানার প্রবণতা। এ পরিস্থিতিতে নিরাপদ সড়কের দাবিতে দেশব্যাপী গড়ে উঠেছে “নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলন। এর প্রভাব পড়েছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলাতেও।

পাকুন্দিয়া উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক সময় চালকের অসতর্কতা ও অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। পাশাপাশি পথচারীদের অসচেতনতা, রাস্তার পাশে অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড় করানো এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার অভাব পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবহন শ্রমিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, নির্ধারিত গতিসীমা বজায় রাখা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করা এবং পথচারীদের রাস্তা পারাপারে সতর্ক থাকার বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

পাকুন্দিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার, সড়কের পাশে অবৈধ পার্কিং বন্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং পথচারীদের জন্য নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সড়ক নিরাপত্তা শুধু পরিবহন নিরাপত্তা বিষয় নয়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবাধিকারের বিষয়ও। সড়ক দুর্ঘটনায় দেশে প্রতি বছর কতজন নিহত ও আহত হয়-তার সঠিক পরিসংখ্যান আমরা জানি না। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হলে কিংবা কেউ আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে গেলে সেই পরিবারটি কতটা দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে পড়ে সেটি আমরা জানি। অপরদিকে সড়ক দুর্ঘটনার অর্থনৈতিক ক্ষতিও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাবে ফেলে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; এর জন্য চালক, পথচারী, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সচেতনতা প্রয়োজন। “নিরাপদ সড়ক চাই” আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ ও কঠোরভাবে সড়ক আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাকুন্দিয়াসহ সারা দেশে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রতিবেদক : রুবিনা খাতুন, নিরাপদ সড়ক চাই, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার কার্যকরী সদস্য ও পাটুয়াভাংগা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক(বাংলা) পাকুন্দিয়া, কিশোরগঞ্জ।