Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the insert-headers-and-footers domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/pratidinsangbad2/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121
আলু চাষে সাফল্য দেখিয়েছে কিশোরগঞ্জের আলু চাষীরা – Pratidin Sangbad

আলু চাষে সাফল্য দেখিয়েছে কিশোরগঞ্জের আলু চাষীরা

আমিনুল হক সাদী: একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত পাশাপাশি  আলু চাষে মনোযোগী হয়ে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে কিশোরগঞ্জের মাইজখাপনের আলম। শুধু তিনিই না জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেকেই আলুর আবাদ করেছেন।
গত বছর আলুর ফলনে তেমন লাভবান না হলেও এবারেও আলুর আবাদ করেছেন আলম। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মের অবসর সময়টুকুকে কাজে লাগানোর জন্য তিনি কৃষিকাজে সম্পৃক্ত হওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন। নিজ উদ্যোগেই ৬৫ শতাংশ জমিতে এলিয়েট আলু চাষ করেন। ফলনও হবে বাম্পার এমন আশাই তার। সেই আলু থেকে চলতি মৌসুমে মোটা অংকের টাকা আয়ের প্রত্যাশা করছে এই আলু চাষী। এমন আলুর চাষে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বেশ উচ্ছ্বসিত।
 আলমের মা বলেন, দু-তিন বছর আগে থেকে আলম আলাদাভাবে কৃষিকাজ করতে চাইলে বাড়ির সামনের ৬৫ শতাংশ জমিনে আলুর আবাদ করেন। এর আগেরবারে আলু চাষে লোকসান হলেও হাল ছাড়েন নাই। তার নিজ চেষ্টায় নিজস্ব জমিতে আলু চাষ করে বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন। আলমের পাশাপাশি তাঁরাও আশাবাদী।
 কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের কাচারিপাড়া গ্রামে সরেজমিনে দেখা যায়, আলম অন্যদের নিয়ে জমি থেকে আলুর চারার পরিচর্চার কাজ করছে। এ সময় আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  জমিতে আলু চাষে খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আলুর বাম্বার ফলন হবে এমন প্রত্যাশা তাদের।
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের চাষী মহিনন্দ ইতিহাস ঐতিহ্য সংরক্ষণ পাঠাগার আংগিনায় স্থাপিত কৃষক স্কুলের শিক্ষার্থী জমশেদ মিয়া বলেন, লংগার বিলে কয়েক কাটা জমিনে উন্নত জাতের গোল আলুর চাষাবাদ করেছি । মাত্র ষাট দিনে এই আলুর ফলন হবে। মাশা আল্লাহ গাছে এখনি ফলন এসেছে। কিছুদিন যাবত ঘনঘন কুয়াশাতেও এই আলুর গাছের কোনো ক্ষতি হয়নি। আশাবাদী ভালো ফলন হবে।
কিশোরগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ সাদিকুর রহমান জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জ জেলার অনেক চর উপজেলায় আলু চাষ ভালো হয়। এবার জেলায় ৫৩০০  হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ৫১৪৬ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। ৪২ হেক্টর  জমিতে আলু কর্তন করা হয়েছে। হেক্টর প্রতি গড় ফলন হবে ২২.৫০ মে.টন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯৪৫ টন আলু উৎপাদন হয়েছে বলে জানা গেছে।
 আবহাওয়া অনুকূল থাকার পাশাপাশি কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি ও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে।
 আলু চাষ করে জেলায় অনেকেই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। পড়া শেষ করে শুধু চাকরির পেছনে দৌড়ে বেকার সময় না কাটিয়ে পৈতৃক জমি বা অন্যের জমি পত্তন নিয়ে কৃষিতে অনেকেই এ রকম সফলতা অর্জন করতে পারে। এতে দেশে বেকার সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি আর্থিক সমৃদ্ধিও আসবে এমনটাই বললেন বিশেষজ্ঞরা।