Notice: Function _load_textdomain_just_in_time was called incorrectly. Translation loading for the insert-headers-and-footers domain was triggered too early. This is usually an indicator for some code in the plugin or theme running too early. Translations should be loaded at the init action or later. Please see Debugging in WordPress for more information. (This message was added in version 6.7.0.) in /home/pratidinsangbad2/public_html/wp-includes/functions.php on line 6121
একুশে পদকপ্রাপ্ত ইসলাম উদ্দিন পালাকারকে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সংবর্ধনা – Pratidin Sangbad

একুশে পদকপ্রাপ্ত ইসলাম উদ্দিন পালাকারকে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সংবর্ধনা

লোক সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য পালাকার ও লোকসংগীতশিল্পী কিশোরগঞ্জের কৃতি সন্তান ইসলাম উদ্দিন পালাকারকে শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দিয়েছেন জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিট।
২৯ মার্চ রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা পাবলিক লাইব্রেরীর হলরুমে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সংগঠনটি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ব্রাক মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত সাংবাদিক রেজাউল হাবিব রেজার সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার জেলা কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি তথ্য সংগ্রাহক ও লেখক সাংবাদিক আমিনুল হক সাদীর সভাপতিত্বে এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন,জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কিশোরগঞ্জ জেলা ইউনিটের সভাপতি সাংবাদিক শফিক কবীর।

সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক ফারুকুজ্জামানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন – বিশিষ্ট লেখক সিনিয়র সাংবাদিক, জেলা পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারণ সম্পাদক মু আ লতিফ, বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের নিয়মিত শিল্পী আবুল হাসেম, বিআরডিবির সাবেক পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, নিরাপদ সড়ক চাই জেলা শাখার সভাপতি ফিরোজ উদ্দিন ভূইয়া, ভোরের আলো সাহিত্য আসরের সভাপতি মোতাহার হোসেন, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এমদাদুল্লাহ, বিশিষ্ট সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বিপ্লব, বিশিষ্ট নাঠ্যকার আতাউর রহমান মিলন,সাংবাদিক আবু সাঈদ, সাদেক আহমেদ স্বপন, তন্ময় আলমগীর প্রমুখ ।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৬ সালের একুশে পদকে ভূষিত করেছে সরকার। এর মধ্যে নাট্যকলা বিভাগে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এ সম্মাননা পেয়েছেন কিশোরগঞ্জের পালাকার ইসলাম উদ্দিন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে একুশে পদক গ্রহণ করেন তিনি।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, ‘ইসলাম উদ্দিনের কণ্ঠে শুধু সুর নয়, আছে গ্রামের ইতিহাস। আছে মানুষের সুখ-দুঃখ। তাঁর গানে উঠে আসে মাটির গল্প, প্রেম আর বেদনার গল্প। তাঁকে সরকার যে একুশে পদকে ভূষিত করেছে আমরা কিশোরগঞ্জবাসী খুবই আনন্দিত। চার দশকের বেশি সময় ধরে ইসলাম উদ্দিন পালাগানকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিচ্ছেন এই ঐতিহ্য। একুশে পদক পুরস্কার তাঁর প্রাপ্য ছিল।’
স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে করিমগঞ্জের নোয়াবাদ গ্রামে থাকেন ইসলাম উদ্দিন পালাকার। তাঁর বড় দুই ভাই যাত্রাদলে অভিনয় করতেন, মুগ্ধ হয়ে দেখতেন ইসলাম উদ্দিন। অভিনয়ের নেশা তখনই মাথায় চেপে বসে। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মঞ্চে ওঠেন ইসলাম উদ্দিন। একসময় তাঁর গানের জাদু নজরে আসে হাওর অঞ্চলের আরেক বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী কুদ্দুস বয়াতির। তিনি ইসলাম উদ্দিনকে শিষ্য করে নেন। শুরু হয় কঠিন সাধনা। ওস্তাদের বাড়িতে থেকে ‘কিচ্ছাগান’ রপ্ত করেন। গানই হয়ে ওঠে ইসলাম উদ্দিনের জীবন। ১৯৮৯ সালে নিজের পালাগানের দল গড়েন তিনি। এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রাম, এক জেলা থেকে আরেক জেলা ঘুরতেন। পালাগানের হাত ধরে আসে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। পালাগানই তাঁর পেশা ও ভালোবাসা।
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ইসলাম উদ্দিন দেশীয় সংস্কৃতির মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন বিদেশের মাটিতেও। ১৯৯৯ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যালে পালাগান করেছেন। ফ্রান্স ও ভারতেও মঞ্চ কাঁপিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে অতিথি প্রশিক্ষক ছিলেন, সিনেমায় গান করেছেন। তাঁর কণ্ঠের জাদুতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় ‘দেওড়া’ গানটি। এটি গাওয়ার পর তিনি নতুন প্রজন্মের কাছেও হয়ে উঠেছেন পরিচিত মুখ।
ইসলাম উদ্দিনের পরিবেশিত পালাগানের মধ্যে রয়েছে, ‘কমলা রাণীর সাগর দিঘি’, ‘জাহাঙ্গীর বাদলা’, ‘মতিলাল’, ‘রূপকুমার’ ‘উথুলা সুন্দরী’, ‘কাকাধরের খেলা’, ‘আমির সাধু’, ‘সুন্দর মতি’, ‘রাম বিরাম’, ‘ফিরোজ খাঁ’–সহ আরও অনেক।
একুশে পদক পাওয়ায় সরকার ও দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন আমি না থাকলেও পালাগান যেন টিকে থাকে। আজকে সাংবাদিক সংস্থা ও ভোরের আলো সাহিত্য আসর আমাকে যে সম্মান দেখিয়েছেন তা আমার একার না কিশোরগঞ্জের সবার।