
নিজস্ব প্রতিবেদক: নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ভৈরব শাখার উদ্যোগে ১১তম মহাসমাবেশে মরহুমা জাহানারা কাঞ্চন স্মৃতি পদক অর্জনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শাখার ৯ জন সড়কযোদ্ধাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় ভৈরব উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নিসচা ভৈরব শাখার সহ-সভাপতি ও ভৈরব উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আল মামুন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে. এম. মামুনুর রশীদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহধর্মিণী মিসেস সামিয়া জামান এবং নিসচা ভৈরব শাখার পৃষ্ঠপোষক ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মো. মুছা। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও সার্বিক পরিচালনা করেন নিসচা ভৈরব শাখার সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ আলাল উদ্দিন।
সংবর্ধিত ৯ সড়কযোদ্ধা হলেন— সভাপতি মোঃ আরিফুল ইসলাম,সহ-সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সুজন, অর্থ সম্পাদক জাকির হোসাইন বিএসসি, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম জনি, দপ্তর সম্পাদক রাকিব হোসাইন, প্রচার সম্পাদক আশরাফুল আলম, প্রকাশনা সম্পাদক জেসমিন আক্তার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ফাতেমা বেগম দীপালী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফারজানা রহমান সুধা এবং [নবম সংবর্ধিত ব্যক্তির নাম এখানে যুক্ত হবে]।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু প্রশাসনের একার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। নিরাপদ সড়ক চাই-এর মতো সামাজিক সংগঠনগুলোকে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। মরহুমা জাহানারা কাঞ্চনের স্মৃতিকে ধারণ করে নিরাপদ সড়কের আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে হবে। যারা এ কাজে অবদান রাখছেন, তাদের সংবর্ধনা দেওয়া একটি ইতিবাচক উদ্যোগ।”
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব আল মামুন বলেন, “একটি সড়ক দুর্ঘটনা শুধু একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেয় না, একটি পরিবারকে দীর্ঘদিনের জন্য অসহায় করে দেয়। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকেই নিসচা ভৈরব শাখা নিয়মিতভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও সড়ক নিরাপত্তায় কাজ করে যাচ্ছে। ১১তম মহাসমাবেশে মরহুমা জাহানারা কাঞ্চন স্মৃতি পদক অর্জন আমাদের কাজের প্রতি মানুষের আস্থা ও স্বীকৃতির প্রতিফলন। এই সম্মান আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভবিষ্যতে ভৈরবের প্রতিটি মানুষের কাছে নিরাপদ সড়কের বার্তা পৌঁছে দিতে আমরা আরও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।”
নিসচা ভৈরব শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলাল উদ্দিন বলেন, “এই সম্মান শুধু কয়েকজন ব্যক্তির অর্জন নয়, এটি নিসচা ভৈরব শাখার প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, চালকদের সচেতন করা এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে ভৈরবকে আরও নিরাপদ সড়কের শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত সড়কযোদ্ধারা তাদের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, মরহুমা জাহানারা কাঞ্চন স্মৃতি পদক অর্জনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সংবর্ধনা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। এ সম্মান তাদের নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণে আরও আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতেও নিসচার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে তারা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে নিসচা ভৈরব শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মরহুমা জাহানারা কাঞ্চনের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে, আগামী ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানে ২১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উদযাপন কমিটি ঘোষণা করা হয়। মাসব্যাপী বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক ও সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
