
তাড়াইল প্রতিনিধি : কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা সদরের অদূরে দড়িজাহাঙ্গীরপুর গ্রামের কাইনহা বিল এখন পদ্মফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ করছে দর্শনার্থীদের।
বর্ষা ও শরৎকালে বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে ফুটে থাকা অপরূপ সৌন্দর্যে গোলাপি ও সাদা পদ্ম দেখতে প্রতিদিনই এখানে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
পড়ন্ত বিকেলে প্রকৃতির এই মনোরম সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসেন বিভিন্ন জেলা-উপজেলার মানুষ। পদ্মবিলের পাশাপাশি গোধূলি লগ্নে দেখা যায় ধলাবক, পানকৌড়ি ও গাঙচিলের উড়ে যাওয়ার দৃশ্য। দর্শনার্থীদের নৌকায় ঘুরিয়ে আয় করছেন স্থানীয় শতাধিক পরিবারের সদস্য।
গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মবিলের পানিতে যতদূর চোখ যায়, সবুজ পদ্মপাতার ফাঁকে ফুটে আছে গোলাপি পদ্ম। কোথাও কোথাও ফুটেছে সাদা পদ্মও। পদ্মপাতায় পানকৌড়ি ও ডাহুকের বিচরণ, আর ফুলের ওপর প্রজাপতি ও ভ্রমরের আনাগোনায় পুরো বিলজুড়ে তৈরি হয়েছে মনোরম পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু বছর ধরে বর্ষাকালে প্রাকৃতিকভাবেই এই বিলে পদ্মফুল ফুটে আসছে। আগে স্থানীয় লোকজন মাছ ধরতে বিলে যেতেন। তবে গত ছয়-সাত বছর ধরে পদ্মফুল দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আগমন বেড়েছে।
দর্শনার্থীদের জন্য বিলপাড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি ডিঙিনৌকা। প্রতি নৌকায় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা ভাড়ায় প্রায় এক ঘণ্টা বিল ঘুরে দেখা যায়। নৌকার মাঝিরা জানান, প্রতিদিন তারা কয়েকবার করে দর্শনার্থীদের নিয়ে বিলে ঘুরেন। এতে তাদের ভালো আয় হচ্ছে। ডিঙিনৌকার মাঝি আফতাব মিয়া বলেন, পদ্মফুল দেখতে মানুষের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। প্রতিদিনই নৌকায় মানুষ ঘুরতে আসে। এই আয় দিয়ে আমাদের সংসার চলে।
দর্শনার্থী সাগর মিয়া, রমীশ বর্মন, এহসানুল হক ও মাহবুবুর রহমান বলেন, মানুষের মুখে পদ্মবিলের কথা শুনে তারা এখানে এসেছেন। কাছ থেকে পদ্মফুল দেখে তাদের ভালো লেগেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পদ্মবিলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ছোট্ট একটি জীববৈচিত্র্য। বিলে দেশীয় প্রজাতির মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পাখির দেখা মেলে। বর্ষাকালে ধলাবক, পানকৌড়ি, শালিকসহ নানা পাখির আনাগোনা বাড়ে।
তাড়াইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিকাশ রায় বলেন, পদ্মফুল সাধারণত সাদা, গোলাপি বা হালকা গোলাপি রঙের হয়। এর সৌন্দর্য ও সৌরভ মানুষের মন আকর্ষণ করে। লাল শাপলা ও পদ্মফুলের মধ্যে কিছুটা মিল থাকায় অনেকেই দুটি ফুল চিনতে ভুল করেন।
